[email protected] ঢাকা | রবিবার, ১লা নভেম্বর ২০২৬, ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩
thecitybank.com

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সাত দফা এক দফা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

চাঁপাই জার্নাল ডেস্ক:

প্রকাশিত:
৩১ অক্টোবার ২০২৬, ২২:৪৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি/সংগ্রহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, আমাদের দাবি পরিস্কার। আমরা সাত দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। এ দাবি কোনো ব্যক্তির,কোনো দলের ও কোনো গোষ্ঠীর নয়। এ দাবি ১৮ কোটি মানুষের।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। এর একটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। আর গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ -তে রায় দিয়েছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণকে অপমান করেছে।

১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে আজ ৩১ অক্টোবর শনিবার রাত পৌনে ১০টায় ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংসদে যাইনি। সরকার গণভোট অস্বীকার করলে সরকার নেই, বিরোধীদলও নেই। তারা এবং আমরা বলেছিলাম গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে এবং আমরা নির্বাচিত হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে রাষ্ট্র সংস্কার করবো। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ১৪০০ শহীদকে ও জনগণকে অপমান করছে।

তিনি বলেন,আমাদের দাবি স্পষ্ট গণভোটের গণরায় শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোট অবৈধ হলে সরকারও অবৈধ। আমরা কথা দিচ্ছি গণভোট বাস্তবায়ন সরকারকে বাধ্য করবো। ভালোয় ভালোয় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে সাত দফা এক দফায় রূপ নেবে।

আমীরে জামায়াত সতর্ক করে বলেন, যদি জনগণের শান্তি কেড়ে নেয়া হয়, অধিকার হারা করা হয়, তাহলে আমাদের সাত দফা এক দফা হবে। সরকার আমাদের দাবি মেনে নিলে আমাদের আর লংমার্চ করার দরকার হবে না। আর তা না হলে দাবি আদায়ে জনগণকে ঢাকার কর্মসূচিতে ডাকার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে।

এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, সরকার আসে যায়। আমরা চেয়েছিলাম একটি সিস্টেম চালু করতে। যার ফলে দেশে অর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ থাকবে না। করপোরেশনগুলোয় দ্বিতীয় শ্রেণি পাস ব্যক্তিদের বসানো হবে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর করপোরেশনগুলো,সরকারি অফিসগুলো দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বাকশাল কায়েম করেছে। অদক্ষ ও অশিক্ষিতরা নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেছে। আমরা জাতি ভুল জায়গা থেকে বের করে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করছি। এজন্য আপনাদের কাছে এসেছি। মানুষের উপর জুলুম না করার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক আলী আজম মো. আবু বক্কর এমপির সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি।

ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালের পথসভা শেষে লংমার্চের বহর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়াও লংমার্চ রুটের বিভিন্ন স্থানের গণজমায়েত স্থলে অনানুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখবেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় সংগঠনের ১১ দলের নেতাকর্মীদের দেয়া অভিবাদন গ্রহণ করবে লংমার্চের বহর।

এর আগে আজ সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে লংমার্চের বহর শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা; ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি; বাগের হাটের ফকিরের হাটের নওয়া পাড়া মোড় ও কাঁটাখালীর মোড়; খুলনা মহানগরীর বাবরি চত্বর ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড; যশোরের মুড়লীর মোড়; ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পথসভায় যোগ দেয় লংমার্চের বহর।

উল্লেখ্য, দাবি আদায়ে ১১ দল গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম লংমার্চ করে চট্টগ্রাম অভিমুখে, দ্বিতীয়টি ১৯ সেপ্টেম্বর করে রংপুর অভিমুখে।

ডেস্ক/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর