[email protected] ঢাকা | সোমবার, ১০ই আগস্ট ২০২৬, ২৫শে শ্রাবণ ১৪৩৩
thecitybank.com

আদালতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
৯ আগষ্ট ২০২৬, ২২:৫৪

ছবি: সংগ্রহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (২য় আদালত) এর এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবু জার গিফারি ও সেক্রেটারি অ্যধাপক আবু বকর এক যৌথ বিবৃতিতে উক্ত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

রবিবার (০৯ আগষ্ট) রাত সাড়ে ০৮ টায় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, রোববার (৯ আগস্ট) আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। বিচারালয় রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আদালতের এজলাস, বিচারকের খাস কামরা কিংবা বিচারিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের হামলা, ভাঙচুর, হুমকি বা বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো বিচারকের সিদ্ধান্ত বা আচরণ নিয়ে কারও অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে তা আইনানুগ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করাই দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সেক্রেটারি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা  নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে বিচারিক পরিবেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের মব-সৃষ্ট পরিস্থিতি বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তারা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের এবং ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তারা আরও বলেন,দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য।

এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আদালত ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন শুনানির সময় আদালতে বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় আদালতের আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই কষ্টে আছেন বলে মন্তব্য করেন বিচারক। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে বিচারককে নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করে এজলাস কক্ষে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান। পরে আদালতের এজলাসে ঢুকে সরঞ্জামাদি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর