[email protected] ঢাকা | মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮শে মাঘ ১৪৩২
thecitybank.com

সৎ-দুর্নীতিমুক্ত যোগ্য প্রার্থীর সন্ধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোটাররা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৩০

ছবি: সংগ্রহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, দক্ষতা ও দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তিকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা। জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের দাবি—তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান, যিনি ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার টেকসই উন্নয়নে কাজ করবেন এবং নিজে দুর্নীতে জড়াবেন না বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টল্যারেন্স বজায় রাখবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে এবার ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরের আমীর ড. কেরামত আলী আলোচনায় রয়েছেন। শিবগঞ্জের ভোটাররা বলছেন, তারা উন্নয়ন চান ঠিকই, কিন্তু সেই উন্নয়ন হতে হবে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমক্ত। বিশেষ করে আম চাষিদের অধিকার রক্ষা এবং সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে যারা অতীতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের দিকেই ঝুঁকছেন স্থানীয়রা।

শিবগঞ্জের বাসিন্দা তারেক রহমান বলেন, শিবগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা ও আমের রাজধানী। আমরা এমন একজন নেতা চাই যিনি শুধু ভোট নিতে আসবেন না, বরং আম চাষিদের অধিকার ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে কথা বলবেন। এবার আমাদের ভোট কেবল তাঁর জন্যই, যিনি সৎ পথে চলবেন এবং দুর্নীতির কাছে মাথা নত করবেন না।

জামায়াতের প্রার্থী কেরামত আলী বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তারা দুঃশাসনমুক্ত দেশ গড়তে চায়।

বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান মিঞা বলেন, আসনটি বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে। জনগণের ভোটে বিএনপির জয় হবে ইনশাল্লাহ।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল) আসনে বিএনপি নেতা মোঃ আমিনুল ইসলাম এবং জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির মুঃ মিজানুর রহমানের প্রার্থিতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই অঞ্চলের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির উন্নয়নে এবং বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট নিরসনে একজন দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন সাধারণ জনগন। ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা, অতীতে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ভাগ্য গড়েছেন, তাদের পরিবর্তে এবার সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্বকে তারা ব্যালটের মাধ্যমে বেছে নেবেন।

নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে পানির কষ্ট সবচেয়ে বেশি। অনেক নেতা আসেন, আশ্বাস দেন কিন্তু কাজ হয় না। এবার আমরা শিক্ষিত ও দক্ষ প্রার্থী খুঁজছি যিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের এই কৃষি সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান করতে পারবেন। দলের চেয়ে বড় কথা হলো প্রার্থীকে মানুষের আমানত রক্ষা করার মতো যোগ্য হতে হবে।

ড. মিজানুর রহমান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের বিকল্প নেই। তাই জনগণ আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কায়ই ভোট দেবেন।

বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের ‘চ্যালেঞ্জিং নির্বাচনেও’ মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর কঠিন সময়েও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছি। আগামী দিনে মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিএনপির নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। এই  আসনেও বইছে পরিবর্তনের সুর।

 তরুণ ও সচেতন ভোটাররা ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর সন্ধানে মুখিয়ে আছেন। তারা মনে করেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে পারেন এমন প্রার্থীই বর্তমান সময়ের দাবি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইসলাম বলেন, নতুন ভোটার হিসেবে আমি চাই একজন ক্লিন ইমেজের প্রতিনিধি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরকে একটি উন্নত ও মাদকমুক্ত শহর হিসেবে গড়ার জন্য সৎ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

যিনি তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করবেন এবং যার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই, আমাদের সমর্থন থাকবে তাঁর প্রতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী বুলবুল বলেন, এ এলাকা আজও বঞ্চিত, অনুন্নত ও অবহেলিত।শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা মাঠে আছি। জামায়াতের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ নিরাপদ। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াত সবসময় কাজ করেছে, আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে।

বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশীদ বলেন, আমি ষষ্ঠবারের মতো এ আসনে নির্বাচন করছি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ জয়লাভ করবে ইনশাল্লাহ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা এবার অনেক বেশি সজাগ; তারা প্রার্থীদের অতীত রেকর্ড এবং জনসেবার মানসিকতা বিশ্লেষণ করছেন। কোনো বিতর্কিত মুখ নয়, বরং যারা দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি নয় বরং প্রমাণ দেবেন, তাদের দিকেই জনসমর্থন পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সুজনের সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে ভোটারদের সচেতন করার কাজ করছি যাতে তারা সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীদের নির্বাচিত করেন। এবারের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা, তা খুবই ইতিবাচক। ভোটারদের উচিত প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করা এবং তাদের সম্পদের বিবরণী ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করা। আমরা চাই এমন প্রার্থী জয়ী হয়ে আসুক যার কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই এবং যিনি জনপ্রতিনিধি হয়ে সম্পদের পাহাড় গড়বেন না।

তিনি আরও যোগ করেন, একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়তে হলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। আর তার জন্য সৎ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। ভোটাররা যেন কোনো প্রলোভনে পা না দিয়ে তাদের বিবেক দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করেন, সেই আহ্বান আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সবসময় থাকবে। এছাড়া আমরা গনভোট নিয়েও জনসচেতন করছি।

সব মিলিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি এখন যোগ্য নেতৃত্বের অপেক্ষায়। ভোটারদের এই নতুন আকাঙ্ক্ষা আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য যেমন বড় পরীক্ষা, তেমনি জেলার রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর