[email protected] ঢাকা | রবিবার, ৩০শে নভেম্বর ২০২৫, ১৬ই অগ্রহায়ণ ১৪৩২
thecitybank.com

সারা দেশে ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’ করবে বিএনপি

চাঁপাই জার্নাল ডেস্ক:

প্রকাশিত:
২৯ নভেম্বার ২০২৫, ১৮:৫৪

ছবি: সংগ্রহীত
সারা দেশে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন করবে বিএনপি। এ উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে সারা দেশে ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’ অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন।
 
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাণীটি পাঠকের সুবিধার্থে হুবহু তুলে ধরা হলো—
 
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
 
শুরুতেই বাংলাদেশের গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আপনাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকেও জানাই পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির অভিনন্দন। 
 
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
 
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে গণতান্ত্রিক অধিকারহারা জনগণ ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে অত্যাচারিত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের জেরে শেষ পর্যন্ত হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।
 
গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীর কাছে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বিজয়ের আনন্দ ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
 
দেশ এবং জনগণের বিজয়ের এই আনন্দঘন উপলক্ষ আরো বর্ণিল আনন্দময় এবং অর্থবহ করতে এবারও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারা দেশে সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে আলোচনাসভা, বিজয়ের রোড শোসহ মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির উদ্যোগে ১ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ কর্মসূচি ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’। ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’ সম্পর্কে আপনাদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরতেই আপনাদের সঙ্গে আজকের সংবাদ সম্মেলন।
 
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
 
আপনারা জানেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। সুতরাং কালুরঘাট আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য অংশ। এই ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকেই শুরু হবে এবারে বিএনপির ‘বিজয় মাস’ উদযাপন কর্মসূচি।
 
১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয় মশাল যাত্রা শুরু করবে। মশাল মিছিল কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিন চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে পৌঁছবে।
 
বিজয় মিছিলের মশাল বহন করবেন ১৯৭১ সালের একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০১৪ সালের একজন জুলাইযোদ্ধা। আমরা মনে করি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের আর ২০২৪ হলো দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।
 
১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরে বিজয় মশাল রোড শো এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগে মশাল বহন করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাইযোদ্ধা। দুই সপ্তাহের এই বিশেষ ‘রোড শ ‘ উদযাপনের সময় বিভিন্ন বিভাগের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধের গান, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রচার, জাসাসের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবে। একই সঙ্গে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে  বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি। এই পুরো আয়োজনে বিএনপির থিম সং, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
 
দেশের সব বিভাগ ঘুরে বিজয় মশাল সব শেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছবে। একই দিন ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’। বিজয় মাস উপলক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচি ছাড়াও পাশাপাশি আরো অন্যান্য কর্মসূচি উদযাপিত হতে থাকবে।
 
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
 
১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত লাখো মানুষ শহীদ হয়েছে। লাখো প্রাণের বিনিময়ে ৭১-এর স্বাধীন বাংলাদেশ, ৭৫-এর ৭ নভেম্বরের আধিপত্যবাদবিরোধী তাঁবেদারমুক্ত বাংলাদেশ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী বাংলাদেশ এবং ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসের এমন প্রতিটি বাঁকে এত মানুষ কেন অকাতরে জীবন দিয়েছিলেন? কী ছিল শহীদদের স্বপ্ন? এবারের বিজয় দিবসের প্রত্যয় হোক শহীদদের সেই স্বপ্ন পূরণের বাংলাদেশ। শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের জাতীয় নির্বাচন দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে এক বিশাল সুযোগ।
 
সুপ্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
 
আপনাদের মাধ্যমে আমাদের এই উদ্যোগ দেশবাসীর কাছে পৌঁছে যাবে বলে আশা করছি। এতক্ষণ আমাদের বক্তব্য শোনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
 
ডেস্ক/ই.ই

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর