প্রকাশিত:
২১ আগষ্ট ২০২৬, ১৯:৫১
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক, ট্র্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে চাঁদা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের মীমাংসা হয়েছে। উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর চাঁদা উত্তোলন ও ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই শ্রমিক সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৯টা ৪০ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সদর মডেল থানায় এ নিয়ে দুই পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি আজ শুক্রবার (২১ আগষ্ট) বিকেলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হক।
বৈঠকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হকের নেতৃত্বে দুই শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা ট্রাক, ট্র্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আনারুল ইসলাম আনার, জেলা বাস, মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন এবং জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান নান্নুসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, লোকাল বাস থেকে ৩০ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হবে, যা দুই শ্রমিক সংগঠন ১৫ টাকা করে ভাগ করে নেবে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দূরপাল্লার বাসের চাঁদা ১০ টাকা বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাস মালিকরা সেটা মেনে নিলে বা বাস্তবায়ন হলে ৪০ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হবে। তখন এই ৪০ টাকাও দুই সংগঠন ২০ টাকা করে ভাগ করে নেবে তবে আপাতত দূর পাল্লার বাস মালিকদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ৩০ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হবে এবং তা দুই সংগঠনই ভাগ করে নিবে। এছাড়া সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, এখন থেকে উভয় সংগঠনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে চাঁদার টাকা উত্তোলন করবে। হরিপুর থেকে কোনো সংগঠন আর চাঁদা উত্তোলন করবে না। এছাড়া বৈঠক শেষে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
জেলা ট্রাক, ট্র্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আনারুল ইসলাম আনার বলেন, সদর থানায় দুই শ্রমিক সংগঠন ও বাস মালিক সমিতির নেতারা বসেছিলাম। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে চাঁদার টাকা উত্তোলন করা হবে এবং সেই চাঁদা অর্ধেক করে ভাগ করে নেওয়া হবে। আমাদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ছিলো তার অবসান হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. একরামুল হক বলেন, ডিসি অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল দুই সংগঠনেরই বৈধ কাগজপাতি রয়েছে। কিন্ত তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত চাঁদা উত্তোলন নিয়ে ভূলবুঝাবুঝি ছিল। যা আমরা বসে মিটিয়ে দিয়েছি।
তিনি আরোও বলেন, এখানে পুলিশ শুধু আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করেছে। চাঁদা উত্তোলন ও ভাগ বাটোয়ারার বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই মধ্য দিয়ে দুই সংগঠনের ভূল বুঝাবুঝির অবসন ঘটেছে।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: