[email protected] ঢাকা | শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১শে ভাদ্র ১৪৩৩
thecitybank.com

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁপাই জার্নাল ডেস্ক:

প্রকাশিত:
৫ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ১৪:৪৮

ছবি: সংগ্রহীত

ইনসুলিন বন্ধ করে ‘কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠিত হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তদন্ত কমিটিতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে কমিটির আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটির বকি সদস্যরা হলেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু ও বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নোটিসে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ অনুসরণ করা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামতসহ আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ডা. মো. মাহমুদুর রহমান।

কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনির উজ জামান বলেন, উনার চিকিৎসা নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আমি এখনও তদন্ত কমিটি হওয়ার চিঠি পাইনি।

ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঢামেক হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ এবং একই বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকরা অধিদফতরের কাছে অভিযোগ করেন, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, হেলথ রেভুলেশন লিমিটেড রোগীর ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ ও উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর রোগীর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। পরে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং এই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন/ডেস্ক/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর