প্রকাশিত:
২৩ আগষ্ট ২০২৬, ২১:০১
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ জন রোগী এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জন পুরুষ রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্বে ভর্তি থাকা ৫৮ জন রোগীর সাথে নতুন ২০ জন যুক্ত হওয়ার পর এবং ছাড়পত্র ও রেফার্ডের হিসাব শেষে বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৩ জনের মধ্যে রয়েছেন ২০ জন পুরুষ, ১৯ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশু (৩ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে)। অপরদিকে, নতুন ভর্তি হওয়া ২০ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ৬ জন মহিলা এবং ২ জন শিশু রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া ৩২ জনের মধ্যে রয়েছে ২০ জন পুরুষ, ৬ জন মহিলা ও ৬ জন শিশু।
হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিত্রে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত বহির্বিভাগে সর্বমোট ৩৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্নার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য উপকরণ মজুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে সর্বমোট ৫২৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে পৌরসভাটির হুজরাপুর, বালুবাগান, পিটিআই, মসজিদপাড়া ও আলীনগর মহল্লা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছেন। পৌরসভার পাশাপাশি শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলা থেকেও প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে আসছেন জেলা হাসপতোলটেতে।
মশক নিধনের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন আর রশিদ জানান, নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে, দীর্ঘদিন ধরে মশা মারার জন্য নতুন করে বাজেট পাস না হওয়ার পৌরসভার রাজস্ব থেকে এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। নতুন করে বাজেট পাস হলে এই কার্যক্রম আরও ব্যাপক ভাবে চালানো সম্ভব হতো।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: