প্রকাশিত:
৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২৮
হাম একটি সংক্রামক রোগ হলেও, অনেকে মনে করেন রোগটি সেরে গেলেই সব বিপদ কেটে যায়। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মাহফুজ রায়হান সতর্ক করে বলেছেন, হাম ভালো হয়ে যাওয়া মানেই সমস্যার শেষ নয়, বরং এরপরই নতুন অনেক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির সূচনা হতে পারে।
হাম পরবর্তী সময়ে শিশুর অপুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া রোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
ভুল ধারণা ও বাস্তবতা: ডাক্তার মাহফুজ রায়হান উল্লেখ করেন, হাম আক্রান্ত শিশুকে ঘিরে আমাদের সমাজে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর মধ্যে অন্যতম হলো:
ফল বর্জন: অনেক অভিভাবক মনে করেন, হামে আক্রান্ত শিশুর কাশি থাকায় ফল খাওয়ালে ঠান্ডা বেড়ে যাবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল।
প্রোটিন এড়িয়ে চলা: শরীরে ফুসকুড়ি (Rash) থাকলে অনেক সময় শিশুকে মাছ, মাংস ও ডিমের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দেওয়া হয় না। চিকিৎসকের মতে, এটি একটি বড় ভুল।
অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ: হাম পরবর্তী জটিলতা এড়াতে ডাক্তার মাহফুজ রায়হান নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো মেনে চলার অনুরোধ করেছেন:
১. পর্যাপ্ত পুষ্টি: আক্রান্ত অবস্থায় এবং হাম সেরে যাওয়ার পরও শিশুকে নিয়মিত ফল, মাছ, মাংস, ডিমসহ সব ধরনের পুষ্টিকর খাবার ঘনঘন খাওয়াতে হবে।
২. অপুষ্টি রোধ: পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত না করলে শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগতে পারে এবং তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে।
৩. জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে শিশু পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিল ও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। সঠিক পুষ্টির অভাবে এই পরিস্থিতি কখনো কখনো প্রাণঘাতীও হতে পারে।
শিশুর দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং হাম পরবর্তী জটিলতা এড়াতে কুসংস্কারমুক্ত হয়ে সঠিক পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন ডাক্তার মাহফুজ রায়হান।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: