প্রকাশিত:
১৩ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ১৬:৩৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ ভরি স্বর্ণ আত্মসাৎ মামলায় পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার জাকির হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অধীনে অফিসার্স মেসে কর্মরত ছিলেন। স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তার বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার আরেক ব্যক্তি হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলমপুরের মোহাম্মদ আলী।
জানা গেছে, মামলার বাদি নিঝুমের ভাইয়ের রাজশাহীতে জুয়েলার্সের দোকান আছে। ব্যবসায়ীদের অর্ডার অনুযায়ী সেখান থেকে স্বর্ণ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এমন একটি চালান নিঝুম চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঠিয়েছিলেন। সেই স্বর্ণের চালান রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে যান নিঝুমেরই দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। তাঁর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চকআলমপুরে। এছাড়া মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. নয়নের বন্ধু কনস্টেবল জাকির হোসেন। মোহাম্মদ আলী স্বর্ণের চালানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওই ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে সেখানে হাজির হন জাকির। পরে পুলিশ পরিচয়ে তিনি তাঁর কাছ থেকে ওই স্বর্ণ নিয়ে চলে যান।
ঘটনার পর ওই ব্যবসায়ী বিষয়টি নিঝুমকে জানান। নিঝুমের অভিযোগ, তাঁর দুলাভাই মোহাম্মদ আলী ও ভাগনে মো. নয়ন পুলিশ কনস্টেবল জাকিরকে ব্যবহার করেছেন। জাকির অভিযানের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০ ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে তিনজনে ভাগ-বাঁটোয়ারা করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর এক মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান কনস্টেবল জাকির। ছুটি শেষে তিনি সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে যোগদানও করেন। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। আর অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং ১০ দিনের মধ্যে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এরপর গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) স্বর্ণের মালিক রাজশাহীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম মামলাটি দায়ের করেন এবং রাতেই অভিযান চালিয়ে কনস্টেবল জাকির হোসেন এবং মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, স্বর্ণের মালিক রাজশাহীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিঝুম মামলাটি দায়ের করেন। এর পর জাকির ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকী স্বর্ণ উদ্ধারেও তৎপরতা চলছে। এছাড়া তাদেরকে আদালতে পাঠানো প্রস্ততি চলছে।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: