প্রকাশিত:
২৭ আগষ্ট ২০২৬, ১৬:৪৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজ অটোরিকশাচালক রুমন আলী (২৩) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রুমনকে হত্যা করে মরদেহ পুটিমারী বিলের একটি আঁখক্ষেতে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২ ঘটিকায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—শিবগঞ্জের সেলিমাবাদ খানপাড়ার মনিরুল খানের ছেলে মো. ওয়াসিম ওরফে অসিম (৩০), বিশ্বনাথপুরের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. রফিকুল আলম (৩৪) এবং বাগদূর্গাপুর কলকলিয়া এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে মো. উমর ফারুক (২৯)।
পুলিশ জানায়, গত ২১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৫টার দিকে শিবগঞ্জের মোহনবাগ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন রুমন আলী। দিনভর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ২২ আগস্ট রাত ১২টা ৫ মিনিটে রুমনের পালিত পিতা মো. একরামুল হক শিবগঞ্জ থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি করেন। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পান শিবগঞ্জ থানার এসআই (নিঃ) সৌরভ কুমার দত্ত।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। এর ভিত্তিতে ২৩ আগস্ট ওয়াসিম ওরফে অসিমকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রফিকুল আলমকেও আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রুমনের অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে অটোরিকশাটি উমর ফারুকের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের অটোরিকশা মাত্র ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করার তথ্য পাওয়া যায়। পরে উমর ফারুকের বাড়ি থেকে রুমনের অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং তাকে আটক করা হয়। অটোরিকশা উদ্ধারের পর রুমনের স্ত্রী মোসাঃ নাজমা সুলতানা (১৯) বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ আগস্ট শিবগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেন। আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় একাধিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ টিম আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে ওয়াসিম ও রফিকুল আলম রুমনকে হত্যা এবং অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তথ্য দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে ২৬ আগস্ট বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পুলিশের একটি বিশেষ দল আসামিদের নিয়ে শিবগঞ্জের পুটিমারী বিলের একটি আঁখক্ষেতে অভিযান চালায়। স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে রুমন আলীর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্ত্রী নাজমা সুলতানা প্যান্ট, কোমরের বেল্ট, এক পায়ের স্যান্ডেল এবং মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন দেখে মরদেহটি তার স্বামী রুমন আলীর বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এছাড়া পুলিশ এ ঘটনায় নিহতের ব্যবহৃত ও ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, মোবাইল ফোন, স্যান্ডেল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটযুক্ত ধারালো ছোট কান্তাই (হাসুয়া) জব্দ করেছে। এছাড়া চারটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে।
এনামুল হক নাসিম/আ.আ
মন্তব্য করুন: