প্রকাশিত:
১ অক্টোবার ২০২৬, ২২:২০
উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল আবার এক হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশে বিশৃঙ্খলারোধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র সৃষ্টির পাঁয়তারায় জড়িতদের কঠোর জবাব দিতে জনগণের প্রতি আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানিসহ বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সমাজকল্যাণ, কৃষি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল এক দফা, এক দফা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসলে তারা কী চায়, জনগণের কাছেও তা স্পষ্ট নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা পালিয়ে গেছে এবং যারা এক দফার কথা বলছে, তাদের কাছে প্রশ্ন—তারা দেশের উন্নয়ন চায় কি না।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। অন্যরা কী চায়, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে একটি দল বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছিল। অথচ বেহেশত ও দোজখের মালিক একমাত্র আল্লাহ। যারা এমন কাজ করেছে, তারা শিরক ও মুনাফেকি করেছে কি না, উপস্থিত জনতার কাছে সে প্রশ্নও রাখেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী মামলা-হামলা ও গুমের শিকার হয়েছেন। তখন যারা নীরব ছিল, তাদের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা ৭১-এর ভূমিকায় ফিরে গেছে। মনে রাখতে হবে, মানুষ জীবন ও ইজ্জত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে।’ তার দাবি, ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকায় উন্নয়নের চাকা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিএনপি সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মে পরিণত করতে চায়।
উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন চাইলে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার। এজন্য অনুকূল পরিবেশ ও পরিস্থিতি জরুরি। কেউ যাতে অযথা পরিবেশ ঘোলাটে করতে না পারে, সে বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার নানামুখী কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন ভাতা চালু করায় দল-মত নির্বিশেষে জনগণ উপকৃত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে ফেনীতে এসে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফেনীতে এসে তিনি উৎফুল্ল এবং নিজের বাড়ির মতো মনে হচ্ছে। তার মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেনী তার মায়ের বাড়ি, নানার বাড়ি। ফেনীবাসীই তার আপনজন ও অভিভাবক। এ সময় উপস্থিত জনতা হাত উঁচু করে তাকে সমর্থন জানান।
এর আগে, মঞ্চ থেকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় ৫ হাজার ৬৪৩ জনকে কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১ হাজার ১২ জন কৃষক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কৃষক কার্ড গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় ২৭৫ জনকে সম্মানীর জন্য মনোনীত করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাদের মধ্য থেকে ছয়জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, দুজন সেবায়েত এবং দুজন পুরোহিত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মানী গ্রহণ করেন।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: