[email protected] ঢাকা | বৃহঃস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর ২০২৬, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩
thecitybank.com

নাচোলে সবুজের সমারোহ: আমনে সোনালী স্বপ্নের মাঝে সার ও কীটনাশক নিয়ে চিন্তিত চাষিরা

উপজেলা সংবাদাতা:

প্রকাশিত:
১২ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ২২:৩৬

মাঠে পরিচর্যায় ব্যাস্ত কৃষক। ছবি: চাঁপাই জার্নাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত নাচোল উপজেলার মাঠ জুড়ে এখন শুধু সবুজের সমারোহ। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠের দিকে তাকালে মনে হয় যেন সবুজ গালিচা পেতে রেখেছে প্রকৃতি। মাত্র দুই মাস আগে রোপন করা আমন ধানের চারাগুলো এখন পূর্ণ যৌবনে রূপ নিয়েছে। কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যা আর অনুকূল আবহাওয়ায় মাঠের পর মাঠ এখন সবুজে পরিপূর্ণ যা দেখে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আগামী দিনের সোনালী স্বপ্নের ঝিলিক।

চারা রোপনের পর থেকে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ধানের গাছগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মাঠের পর মাঠ সবুজ রঙে ছেয়ে গেছে। তবে রোগ বালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণের জন্য অনেকটা দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ধানের এই যৌবনকালে পোকামাকড় ও ইঁদুরের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন চাষীরা।

এলাইপুর গ্রামের কৃষক মোঃ ফিরোজ বলেন, আক্রান্ত ফসলের জমিতে দফায় দফায় চড়া মূল্যের কীটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। এতে করে শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক এবং রাসায়নিক সার ক্রয় করতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, সেই তুলনায় ধান বিক্রি করতে গিয়ে তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ফলে তাদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাই তিনি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

আরেক কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, জমিতে এ সময় প্রচুর পরিমাণে ইঁদুরের উপযোগ দেখা যাচ্ছে। তাই তিনি ধানের মাঝে মাঝে ফাঁড়ি দিয়ে ধানের রোপাগুলোকে ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী এ বছর চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। কৃষকদের সময়মত রাসায়নিক সার প্রদান করা হচ্ছে। পোকামাকড়ের উপদ্রবের হাত থেকে রক্ষার জন্য কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

হেলাল উদ্দিন/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর