[email protected] ঢাকা | বৃহঃস্পতিবার, ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯শে ভাদ্র ১৪৩৩
thecitybank.com

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুষলধারে বৃষ্টি, চরাঞ্চলের আঊশ ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষি বিভাগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
২ সেপ্টেম্বার ২০২৬, ১৭:৪৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি অধিদপ্তর কার্যালয়। ছবি: চাঁপাই জার্নাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান ৩৬.৪ মি.লি। মঙ্গলবার রাতভর বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তবে পদ্মার চরের আঊশ ধান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে তারা।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে গড়ে ৩৬.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদের মধ্যে উপজেলার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে নাচোলে, যার পরিমাণ ৫০ মিলিমিটার। এছাড়া সদর উপজেলায় ৪৫ মিলিমিটার, শিবগঞ্জে ৩২ মিলিমিটার এবং গোমস্তাপুরে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে জেলায় সর্বনিম্ন ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ভোলাহাট উপজেলায়।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে পৌরসভার আরামবাগ, শান্তিরমোড়, বাতেনখাঁর মোড়, পুরাতন বাজার, নিউমার্কেট, উদয়ন মোড়সহ পৌর এলাকার অনেকস্থানে ঘরবাড়ি, প্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাস ও রাস্তায় পানি জমে যায়। জলাবদ্ধতায় অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘরের সামনে পানি জমায় অনেকে সাময়িক গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। কারও কারও রান্নাঘর-টিউবওয়েলের কিছু অংশ ডুবে গেছে পানির নিচে। এছাড়া ছাত্রাবাসে পানি ঢুকে পড়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উঁচু বা বরেন্দ্র জমিতে আউশ ধান জুলাই-আগস্টে কাটা শেষ হয়েছে, কিন্তু চরের জমি বা নিচু জমেতে পানি দেরিতে নামে, তাই সেখানে কৃষকরা আউশ দেরিতে লাগায়। ফলে চরঞ্চলের বা পদ্মার চরে রোপনকৃত আঊশ ধান কাঁটার সময় এখন। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনাইন বলেন, আমরা এখন মাঠে আছি,  কি পরিমান ফসলি জমি ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণ করতে আরও দু'একদিন সময় লাগবে।  তবে এখন আমন ধানের চারা রোপন হয়েছে। এই বৃষ্টি আমন ধানের জন্য ভালো এবং কৃষকরা সেচ খরচ বাঁচবে। কিন্ত কিন্তু চরাঞ্চলে আউশ ধান এখন কাটার সময়, বৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন জমে থাকলে আউশ ধান কাটতে বিঘ্ন ঘটবে। তাই বলা যায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন জমে থাকলে আঊশ ধানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী  মোঃ রকিবুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতভর মষুলধারে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে৷ যার রেকর্ড ধরা হয়েছে ১৬৫ মিলিমিটার, যা এই মৌসুমে রের্কড পরিমাণ। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি নদীতে বিপদ সীমার নিচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর