[email protected] ঢাকা | শনিবার, ২২শে আগস্ট ২০২৬, ৬ই ভাদ্র ১৪৩৩
thecitybank.com

ধান-আম নষ্ট করে ফসলী জমির মাঝে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানা, কৃষকদের বাঁধা

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
২১ আগষ্ট ২০২৬, ২০:২৬

ছবি: সংগ্রহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের সাহাবাডাইং এলাকায় উর্বর ফসলি জমির মাঝখানে ধান-আম নষ্ট করে চলছে অবৈধভাবে সিসা তৈরির কাজ। মূলত অটোরিকশা ও চার্জার ভ্যানের পুরাতন ব্যাটারি ভেঙে এই কারখানায় সিসা বের করা হয়।

ব্যাটারির ভেতরের বিভিন্ন যন্ত্রাংস খুলে, বিষাক্ত এসিড ও সিসা গলিয়ে তা আবার ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে। কিন্তু এই ব্যাটারির মারাত্মক বিষাক্ত এসিড, সিসা আর প্লাস্টিকের বর্জ্য মিশছে চারপাশের মাটিতে। এতে কারখানার পাশের উর্বর ফসলি জমিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে আশপাশের পরিবেশও।

লোকচক্ষুর আড়ালে, রাতের আঁধারে এই ক্ষতিকর কাজ চালানো হচ্ছে। দিনের বেলা এই কারখানাটি একদম জনমানবহীন ও শান্ত থাকে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই চেনা রূপ বদলে যায় এই জায়গার। রাতের আঁধারে সেখানে আনা হয় পুরাতন ব্যাটারি। এরপর সেগুলো পুড়িয়ে সিসা বের করার কাজ চলে গভীর রাত পর্যন্ত। সিসা পোড়ানোর ঝাঁঝালো ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় রাতের বেলা এলাকার মানুষের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। কারা এই কাজ করছে, তা স্থানীয় কেউ জানেন না। সম্পূর্ণ অপরিচিত কিছু মানুষ গোপনে এই ক্ষতিকর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বিষাক্ত ধোঁয়া ও এসিডের কারণে কারখানার চারপাশের সবুজ ঘাস এরই মধ্যে মরে কালো হয়ে গেছে। ধানি জমি আর আমের বাগানগুলো পড়েছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। ইতোমধ্যেই আশেপাশে থাকা ধান ও আমের পাতা মরতে শুরু করেছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায়।

কৃষকরা জানান, দিনের বেলা এখানে কেউ থাকে না, কিন্তু সন্ধ্যা হলেই বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ভরে যায়। গন্ধে টেকা যায় না। চোখের সামনে মাঠের সবুজ ঘাসগুলো মরে সাফ হয়ে যাচ্ছে। ধানের জমিতেও এর খারাপ প্রভাব পড়ছে। আমরা চাষবাস করে খাই, এভাবে চললে তো ফসল সব নষ্ট হয়ে যাবে।

ফসলি জমিতে ও লোকালয়ের কাছে এমন বিপজ্জনক পরিবেশ দূষণের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু সাইদ বলেন, কৃষি জমিতে অটোরিকশার ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা এবং এর বিষাক্ত এসিড ও বর্জ্য মাটিতে ফেলা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বড় অপরাধ। এ সিসার ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্য বাতাস, মাটি ও ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করে। গোবরাতলার সাহাবাডাইং এলাকার এ বিষয়টি খোঁজ নেয়া হচ্ছে এবং যতটুকু জানতে পেরেছি সেখানে কার্যক্রম শুরু করার সময় কৃষকরা বাঁধা দেয়। পরে তারা কার্যক্রম শুরু করতে পারে নি। তবে আমাদের স্থানীয় সোর্স এর মাধ্যমে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) চালিয়ে অভিযান চালানো হবে। এই অবৈধ কাজের সাথে যারা জড়িত, তাদের ধরে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর