[email protected] ঢাকা | বুধবার, ১৩ই মে ২০২৬, ৩০শে বৈশাখ ১৪৩৩
thecitybank.com

প্রাকৃতিক খাবারে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বড় হয়েছে ২৫ মণের ‘নবাব’, দাম ৮ লাখ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রকাশিত:
১২ মে ২০২৬, ২০:২০

২৫ মণ ওজনের নবাব। ছবি: চাঁপাই জার্নাল

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে সাধারন মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশালাকৃতির এক গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘নবাব’। সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করা অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি বর্তমানে জেলার অন্যতম বড় গরু বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে মহানন্দা নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি খামারে দীর্ঘ তিন বছর ধরে গরুটিকে পরম মমতায় লালন-পালন করছেন খামারি আক্তার হোসেন। তাঁর নিজস্ব গাভীর বাছুর হিসেবে জন্ম নেওয়া এই গরুটিকে ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত যত্নের সাথে বড় করা হয়েছে। মহানন্দার চরে নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত টাটকা কাঁচা ঘাসই গরুটির প্রধান খাদ্য। এর বাইরে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি দানাদার খাবার হিসেবে গম, ভুট্টা, ছোলা ও গমের ভুষি সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হচ্ছে, যা মেটাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে খামারিকে।

সরজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি। এতে জড়িত রয়েছেন খামারির পরিবার। এ যেন নিজেদের পরিবারেরই সদস্যে পরিণত হয়েছে গরুটি।

স্থানীয় বাসিন্দা নবাব আলী বলেন, নবাব নামের এই গরুটি তাদের নিজস্ব গাভীর পেটের বাছুর ছিল। ছোট থেকেই তারা লালন পালন করছে প্রায় তিন বছর হয়ে গেলো বয়স। ছোট থেকেই খুব যন্ত করে তাকে লালন পালন করছে। গরুটার খাবার কিন্ত ভিন্ন রকম। অনান্য খামারী গরুকে ইনজেকশন করে বা অন্য মোটা তাজাকরণ খাবার খাওয়ায়। এদের ভিতর এটা নাই। ঘাস খাওয়ায়, খৈল, গম ও ভুট্টা এগুলোই খাওয়ায়। প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি খাবার দিতে হয় আনুমানিক প্রায় ৫০০ টাকা খরচ আছে গরুটির পিছনে। দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকার কাঁচা ঘাস লাগে। আর কাচা ঘাস ছাড়া অন্য কিছু খাবে না। কাচা ঘাস দিতেই হবে। বুম, গম আর ছোলা ছাড়া অন্য কোন খাবার খাই না। তবে গরুটি অনেক ঠান্ডা। এতো বড় গরু একটা মানুষের দ্বারা পালা (লালন-পালন) করা সম্ভব না। এছাড়া জিনিস পাতির দাম বৃদ্ধির কারণে গরুটির পিছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে।

আরেক বাসিন্দা তোফাজ্জল বলেন, আমি গরুটাকে তিনবছর যাবত দেখছি এই খামারে। গরুটাকে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। গম, ভুট্টা, ছোলা, ঘাস, আউর খাওয়ানো হয়। এমনকি গরু যখন যেটা খেতে চাই তখনই গরু সেটা দিতে প্রস্তত আছে। গরুটি খুব শান্ত শিষ্ঠ। একটা ছোট বাচ্চাও গরুটিকে টেনে নিয়ে যেতে পারবে। গরুটি শান্ত শিষ্ঠ হওয়ার কারণে এই মালিক তাকে একাই লালন পালন করতে পেরেছেন নতুবা পালা সম্ভব হতো না। আামাদের ইউনিয়ন তথা আশে পাশের এলাকার সবচেয়ে বড় গরু এটি। আনুমানিক গরুটির প্রায় ২৫ মণ মতো ওয়েট আছে। আমার জানামতে এটাই এলাকায় সব চেয়ে ওজনশালী গরু।

সাদিকুল নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, আমার জীবনে এমন গরু আগে দেখিনি। গরুটি এতো লম্বা, উচা এবং দেখতে আকষণীয়। গরুটি মানুষ (বড়) করতে ৩ বছর মতো সময় লেগেছে। গরুটিকে খাবারও কম লাগে না। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি খাবার দিতে হবে এমন বড় গরুকে। এছাড়া সাধারন মানুষে এতো বড় গরু কিনতে পারবে না। আল্লাহ যাদেরকে ধন সম্পদ দিয়েছে তারই এই গরুটিকে কিনতে পারবে।

খামারী আক্তার হোসেন বলেন, গরুটা আমার খামারের। গরুটা ছোট থেকেই লালন পালন করছি। আমার গাভীর পেটের বাছুর এটা। এর বয়স তিন বছর। আমি প্রতিদিন গরুটাকে যন্ত করে খাওয়ায়। ঘাস, গম, ভুট্টা ও গমের ভুষিসহ সকল প্রাকৃতিক খাবার। জমির কাচা ঘাস ও দানাদার খাবার বেশি খাওয়ায়। গরুটা দেখতে সুন্দর এজন্য গরুটাকে আমি পালন করছি তিনবছর ধরে। গরুটা শান্ত শিষ্ঠ এবং আমি মনে করি চাঁপাইনবাবগঞ্জের এর থেকে বড় গরু নাই। পাড়া প্রতিবেশি বলে যে গরুটা অনেক সুন্দর। গরুটাকে  আনুমানিক পাঁচশো থেকে সাতশো টাকার খানা লাগে। এই গরুর পিছনে প্রতিদিন আমার যে খরচ হয় সেই টাকা দিয়ে একটা সংসার চলবে। যাহোক মনের আনন্দে আমি গরুটাকে পালন করছি। কষ্ট হলেও যখন গরুটার দিকে আমি দেখি, তখন আমার মনটা ঠান্ডা হয়ে যায়। কষ্টাও দূর হয়ে যায়। তার পিছনে খরচ করার পর তাকে যখন দেখি তখন সেই খরচের কথা আর মনে পড়ে না। আমর সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। এছাড়া আমি এই গরুটার আনুমানিক দাম চাচ্ছি ৮ লক্ষ টাকা। কোন ব্যাক্তি গরু নিতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং আমরা কুরবানি উপলক্ষে গরুটা বিক্রি করবো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মোসা: শারমিন আক্তার বলেন, জেলায় যে পরিমান গবাদী পশুর চাহিদা রয়েছে তার চেয়ে ৩০ ভাগ গরু উদ্বৃদ্ধ রয়েছে। আমাদের এখানে বেশ বড় জাতের ফ্রিজিয়ান গরু রয়েছে। তার মধ্যে একটি গরু রয়েছে যা ২৫ মণ ওজনের। আমাদের পক্ষ থেকে এই খামারিকে উদ্বুদ্ধ করি এবং অনান্য যে খামারি রয়েছে তারাও এটা দ্বারা উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।  প্রাণি সম্পদ এমন একটা সেক্টর যেখানে খুব অল্প টাকাতে অনেক কিছু করতে পারে। এছাড়া আমাদের এখানে যে গরুটি হয়েছে সেটি জাত উন্নয়নের মাধ্যমে পালিত হয়েছে। প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের এখানেই এটা তৈরি হয়েছে। খামারি গরুটিকে প্রায় ৩ বছর লালন পালন করেছেন। এটার গোধ বেশ ভালো। আশা করি খামারি এটা বিক্রি করে ভালো দাম পাবেন এবং যিনি কিনবেন তিনিও খুশি হবেন।

এম.এ.এ/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর