প্রকাশিত:
২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:০০
ইফতারের টেবিলে লেবুর শরবত আর বেগুনি যেন এখন বিলাসিতা। সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি হালি লেবু মিলত ৪০-৬০ টাকায়। কিন্তু রমজানের প্রথম দিনেই পণ্যটি যেন মধ্যবিত্তকে চোখ রাঙাচ্ছে। আকারভেদে তিনগুণ বেড়ে ১০০-১২০ ঠেকেছে লেবুর হালি। বেগুনের দামও অনেকটা নাগালের বাইরে। কেজিপ্রতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়। কাঁচামরিচ-শসার দামও কম নয়।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, গুলশানসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে এসব তথ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বড় আকারের লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর ১০০ টাকায় মিলছে ছোট লেবু। গোল বেগুনের কেজি ১৬০ টাকা। লম্বা বেগুনের দাম ১৩০-১৪০ টাকা কেজি। সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়ে শসা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। আর কাঁচামরিচ ২০০ টাকা কেজি। যদিও কিছু কিছু জায়গায় মিলছে ১৬০-১৮০ টাকায়।
জোয়ার সাহারা বাজারে ফুটপাতে বসে কাঁচামরিচ আর লেবু বিক্রি করছেন নুরুল আমিন। তার কাছে কাঁচামরিচের কেজি ১৬০ টাকা হলেও লেবুর হালি ১২০ টাকা। তিনি বলেন, তুলনামূলক কাঁচামরিচের দাম কমেছে। কিন্তু চাহিদা থাকায় লেবুর দাম বাড়ছে। কেনা বেশি হওয়ায় বিক্রিও সেভাবে করতে হচ্ছে। এছাড়া দোকানের তুলনায় আমার এখানে কিছুটা সাশ্রয়ী পাচ্ছেন ক্রেতারা। কারণ আমার কোনো ভাড়া লাগছে না। এজন্য লাভের হিসাব-নিকাশও কিছুটা ব্যতিক্রম।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আবু হোসেন বলেন, চার-পাঁচদিন আগেও আমরা লেবুর হালি বিক্রি করেছি অনেক কমে। এখন যেটা ১২০ টাকার নিচে দিতে পারছি না। ভালো গোল-লম্বা বেগুনের কেজি ছিল ৬০ টাকা। এছাড়া ৭০-৮০ টাকায় কেজিপ্রতি শসা বিক্রি করেছি। কাঁচামরিচের দাম আগের তুলনায় একটু কম। মূলত আমদানি কম থাকায় প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকার কারণেই দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আবু হোসেনের দোকানেই সবজি কিনতে আসেন হৃদয় আলম। অন্যান্য পণ্য কিনলেও কেনেননি বেগুন ও লেবু। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোজার প্রথম দিনেই কাঁচাবাজারে আগুন লেগেছে। কোনো সবজিতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। এক সপ্তাহ আগেও লেবুর ডজন কিনেছি ৮০ টাকায়। অথচ আজ এক হালিই বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। বেগুনের দামও দ্বিগুণ। তাই দাম কমা ছাড়া না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
হৃদয় বলেন, আসলে প্রতি বছরই রমজান এলে সবকিছুর দাম বেড়ে যায় আমাদের দেশে। এতে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের অবস্থা কাহিল হয়ে যায়। তাই সরকারের সংশ্লিষ্টদের বাজারে মনিটরিং আরও বাড়ানো উচিত।
ক্রেতারা বলছেন, রমজান এলেই কিছু পণ্যের দাম অকারণে বাড়ে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তবে আমদানি সংকট ও সরবরাহ ঘাটতির চাপে বিকল্প পথ নেই বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: