[email protected] ঢাকা | বুধবার, ২২শে জুলাই ২০২৬, ৬ই শ্রাবণ ১৪৩৩
thecitybank.com

রসিদ বিহীন টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, প্রতিবাদে রেল অবরোধ

নিজস্ব সংবাদদাতা:

প্রকাশিত:
২১ জুলাই ২০২৬, ১৩:২৭

ছবি: সংগ্রহীত

রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে টিটিদের বিরুদ্ধে।

এর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজশাহীর সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) দিনগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফোরকান উদ্দীন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনের টিকিট বিহীন যাত্রীদের থেকে কোনো রকম রসিদ ছাড়াই টাকা নিচ্ছিলেন দায়িত্বে থাকা টিটি। এর প্রতিবাদ করায় ফোরকান উদ্দীনের উপর চড়াও হন টিটিরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিশার্ট পরিহিত হলেও উপর্যুপরি মারধর করা হয়েছে তাকে।

এদিকে রাকসু'র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দীন আম্মার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘আমার কাছে রাত সাড়ে ৩টায় কল আসে যে তাকে মারধর করা হয়েছে। টিটি কর্তৃক মারধর করার ব্যাপারটা খুবই অপ্রত্যাশিত। যখন ট্রেনটা আসে সাড়ে ৫টার দিকে, আমরা যাই ব্যাপারটা সলভ করার জন্য। কারণ এটা নিয়ে সমাধান চেয়েছি। না হলে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বাজারেই আমরা ট্রেনটি আটকে দিতে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুনতে পারলাম যে, টিটিকে তারা আগের স্টেশনে বের করে দিয়েছে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আইন সম্পর্কে ভালো জানেন। এ জন্য উনি প্রটেস্ট করেছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে প্রতি বছর লাভ তো নেইই, কোটি কোটি টাকা লোকসান দেখায় শুধুমাত্র এ কারণে যে, যাত্রীদের কাছ থেকে টিটি টাকা নিয়ে জালিয়াতি করে। এই ঘুষ নেয়ার যে সিস্টেম, এটার প্রতিবাদ করেছে।’

এ প্রতিবাদের কারণে শিক্ষার্থীকে দুই বগির মাঝখানে ফাঁকা জায়গায় কিল-ঘুষি মারে এবং তার পা কেটে গেছে জানিয়ে আম্মার বলেন, ‘তার চশমাটা ভেঙে গেছে। গুরুতর ব্যাপার হচ্ছে, যদি গেটটা আটকানো না থাকতো, উনি পড়ে গিয়ে ইনস্ট্যান্ট মারা যেতে পারতেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, ঘটনা তো আমরা দুই তরফ থেকে দুই রকম শুনতে পাচ্ছি। তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বোঝা যাবে। প্রাথমিকভাবে আমাদের এক টিটির সাথে কোনো বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তার প্রেক্ষিতে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ ছাত্ররা সকালে আমাদের এখানে এসেছিল, আমরা তাদের সাথে কথা বলেছি।

তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ওই অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাসপেন্ড করেছি এবং অন্যান্য ব্যবস্থাও প্রক্রিয়াধীন আছে। এরপরও শিক্ষার্থীরা আমাদের উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন নি। তারা এখন পর্যন্ত ট্রেন অবরোধ করে রেখেছেন। সকাল থেকে শুধুমাত্র ঢাকাগামী মধুমতী এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে গেছে, বাকিসব ট্রেন স্টেশনেই আছে।

এস.এম/আ.আ


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর