প্রকাশিত:
২৮ জুন ২০২৬, ২৩:২৮
কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র দাবদাহ আর সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চলা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনজীবন। দিন কিংবা রাত—অসহ্য গরমে ঘরের ভেতরে টেকা দায় হয়ে পড়েছিল সাধারণ মানুষের। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত রাতে জেলাজুড়ে নেমেছে স্বস্তির বৃষ্টি। এই 'রহমতের বৃষ্টিতে' তীব্র গরম থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছে নাজেহাল চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা বেশ কয়েক ডিগ্রি হ্রাস পেয়েছে। এতে করে জনজীবনে স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তীব্র রোদের কারণে দিনে প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছিলেন না। শ্রমজীবী মানুষেরা পড়েছিলেন চরম বিপাকে। এরই মধ্যে আবার যোগ হয়েছিল লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছিল না মানুষ।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ফ্রিজে রাখা পচনশীল জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। সব মিলিয়ে এক দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল পুরো জেলায়।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই লোডশেডিং হচ্ছে। তবে দ্রুতই এই সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে বলে আশ্বস্ত করেছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমানে আমাদের চাহিদা ৭৮ মেগাওয়াট কিন্ত সরবরাহ পাচ্ছি ৫৫ মেগাওয়াট মতো। তাই যেসকল এলাকায় চাহিদা বেশি সেসকল এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। আগামীতে লোডশেডিং বাড়বে কিনা তা আমাদের চাহিদা ও সরবরাহের উপর নির্ভর করবে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাহক পর্যায়ে দুইটি বিভাগে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নেসকো। যার মধ্যে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ আমাদের চাহিদা হচ্ছে ৩২ মেগাওয়াট কিন্ত সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট। এছাড়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এ আমাদের চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট কিন্ত এখানে সরবরাহ পাচ্ছি ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। তাই এ কারণে এলাকাভেদে লোডশেডিং হচ্ছে।
এম.এ.এ/আ.আ
মন্তব্য করুন: