প্রকাশিত:
২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২:৫২
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রয়ারি) দুপুরে ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজারের ইজারা, গরুর বাজার, মাছ বাজার ও ৫টি সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারার সিডিউল জমা নিয়ে দুই পক্ষ বিবাদে জড়ায়। এ সময় পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বেপারী এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জল ফরাজী গং, পৌর বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ফরাজী, বিএনপি নেতা আমিনুল হক সরকারসহ অন্যান্যদের সিডিউল জমা দিতে বাধা দেয়।
যৌথ বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেনাবাহিনীর লাঠি চার্জের ঘটনায় উভয় পক্ষের বদরুজ্জামান (৫৫), সায়েম (২০) ও সফিউল্লাহসহ ৫ জন আহতে হয়েছেন।
পৌর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বেপারী বলেন, সিডিউল জমা দেওয়ার সময় ছিল দুপুর ১টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পর কয়েকজন সিডিউল নিয়ে জমা দিতে আসলে আমরা বাধা দিয়েছি। এতে তারা আমাদের সফিল্লাহকে মারধর করে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক সরকার এবং পৌর বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান বলেন, প্রশাসনের কারসাজিতে একপক্ষের সিডিউল জমা নেওয়া হয়। এই টেন্ডারের বাক্স উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় দেওয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র পৌরসভায় বাক্স রাখা হয়।
তারা অভিযোগ করেন, সিডিউল জমা দিতে যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জল ফরাজী গংরা বিএনপি নেতা বদরুজ্জামানের মাথায় রক্তাক্ত জখমসহ কয়েকজনকে আহত করে। ছেঙ্গারচর পৌরসভার এই হাট-বাজার ইজারা বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার দাবি জানান তারা।
মতলব উত্তর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল বলেন, সিডিউল জমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ও সেনাবহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, একপক্ষ আরেক পক্ষকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ছিল। নির্দিষ্ট সময়ের ৫ মিনিট আগে তারা এসেছে। সিডিউল জমা দিতে না পারলে তারা ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার সাতটি স্থানের বিপরীতে সাতটি সিডিউলই জমা পড়েছে। এতে প্রমাণিত কিছু একটা হয়েছে।
ডেস্ক/আ.আ
মন্তব্য করুন: