[email protected] ঢাকা | শুক্রবার, ২৯শে আগস্ট ২০২৫, ১৪ই ভাদ্র ১৪৩২
thecitybank.com

ট্রেন ও আসনভেদে ভাড়া বাড়বে ১৫ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত। ২০১৬–১৭ অর্থবছরে সর্বশেষ ভাড়া বেড়েছিল।

মাশুল বসিয়ে ভাড়া বাড়াতে চায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল

চাঁপাই জার্নাল ডেস্ক:

প্রকাশিত:
২৮ আগষ্ট ২০২৫, ১৫:০৫

ছবি: সংগ্রহীত

ট্রেন ভ্রমণে নতুন করে ভাড়া বাড়াতে চায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। সম্প্রতি রেল ভবনে ভাড়া বাড়ানোর এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকর হলে পূর্বাঞ্চলের অন্তত আটটি রুটে ট্রেনে চড়তে বেশি টাকা খরচ করতে হবে যাত্রীদের।

এবার রেলওয়ে সরাসরি টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে না। ভাড়া বৃদ্ধি করা হবে পন্টেজ চার্জ বা মাশুল আরোপের মাধ্যমে। এখন ঢাকা–চট্টগ্রামের বিরতিহীন ট্রেন সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ভ্যাটসহ ৮৫৫ টাকা। পন্টেজ চার্জ আরোপের পর তা দাঁড়াবে ৯৪৫ টাকায়। অর্থাৎ আগের তুলনায় ৯০ টাকা বেশি গুনতে হবে যাত্রীদের। এভাবে ট্রেন ও আসনভেদে ভাড়া বাড়বে ১৫ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত। রেলওয়ে সর্বশেষ ২০১৬–১৭ অর্থবছরে ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি করেছিল।
রেলওয়ের ভাষায় পন্টেজ চার্জ হলো রেলপথের মধ্যে কোনো সেতু বা সমজাতীয় অবকাঠামো পড়লে ভাড়ার সঙ্গে যে বাড়তি মাশুল নির্ধারণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুকে দূরত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হবে আড়াই কিলোমিটার। ফলে পথের দূরত্ব কাগজে–কলমে বেড়ে যাবে। আর সেই অনুপাতে মাশুল বসবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১০০ মিটার বা এর চেয়ে বেশি দৈর্ঘ্যের সেতু থাকা রুটগুলোতে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল। প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলে আটটি রুটে এ রকম সেতু রয়েছে ২৮টি।

রেলওয়ে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত—ছয় মাসে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় করেছে ৮৩৬ কোটি টাকা। এ সময় ব্যয় করেছে ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবছর গড়ে দুই হাজার কোটি বা এর বেশি লোকসান দিচ্ছে রেলওয়ে। ২০০৫ সালে ১ টাকা আয়ের বিপরীতে ১ টাকা ৪৬ পয়সা ব্যয় করত রেলওয়ে।

লোকসান সামাল দিতে আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় হ্রাস নিয়ে গত ২৫ মে রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম টিকিটের ভাড়া না বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। তিনি রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ১০০ মিটারের বেশি লম্বা সেতুতে ‘পন্টেজ চার্জ’ সমন্বয়ের জন্য নির্দেশনা দেন।

পন্টেজ চার্জের ভিত্তিতে ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার কার্যালয়। ঢাকা–চট্টগ্রাম–সিলেট–ময়মনসিংহ বিভাগ নিয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পন্টেজ চার্জের ভিত্তিতে ভাড়া বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব রেল ভবনে পাঠানো হয়েছে। তবে এই ভাড়া অনুমোদন ও আদায় প্রক্রিয়া কিছুটা সময়সাপেক্ষ।

যত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের কার্যালয় মাশুল আরোপ করে প্রস্তাবিত ভাড়ার তালিকা করেছে। প্রশাসনিক অনুমোদনের পর এই প্রস্তাবিত ভাড়া আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

রেলওয়ে সাধারণ ট্রেন ও বিরতিহীন আন্তনগর ট্রেনের জন্য আলাদা করে ভাড়া নির্ধারণ করে প্রস্তাব পাঠিয়েছে রেল ভবনে। ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে বর্তমান ভাড়ার দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার। পন্টেজ চার্জ নির্ধারণের পর এই দূরত্ব হবে ৩৮১ কিলোমিটার।

এই রুটে এখন মেইলের ভাড়া ১৩৫ টাকা, পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হলে এই ভাড়া দাঁড়াবে ১৫০ টাকায়। ভাড়া বাড়বে ১৫ টাকা। এ ছাড়া কমিউটার ও শোভন চেয়ারে ভাড়া বাড়বে যথাক্রমে ২০ ও ৪০ টাকা করে।

ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে বেশি চাহিদা রয়েছে আন্তনগর ট্রেনের টিকিটের। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্নিগ্ধা টিকিটের ভাড়া ৭৭৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫০ টাকা হতে পারে। ভাড়া বাড়বে ৭৩ টাকা। আবার এসি বার্থের (শুয়ে যাওয়ার আসন) ভাড়া বাড়বে ১৪০ টাকা। বর্তমানে এসব আসনের ভাড়া ১ হাজার ৪৪৮ টাকা।

আর বিরতিহীন ট্রেনে (যেমন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস) স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ৮৫৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা বেড়ে দাঁড়াবে ৯৪৫ টাকা। প্রথম বার্থ ও এসি সিটের প্রতি আসনের ভাড়া বাড়বে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আর এসি বার্থের ভাড়া বাড়তে পারে ১৬০ টাকার মতো। এই আসনের ভাড়া এখন ১ হাজার ৫৮৭ টাকা।

কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের বর্তমানে স্নিগ্ধা আসনের ভাড়া ১ হাজার ৩২২ টাকা। প্রস্তাবিত ভাড়া অনুযায়ী তা হবে দেড় হাজার টাকা। অর্থাৎ ভাড়া বৃদ্ধি পাবে ১২৮ টাকা। প্রথম বার্থ ও এসি সিটের ভাড়া বাড়বে ১৫০ টাকা করে। আর এসি বার্থের ভাড়া এখন যেখানে ২ হাজার ৪৩০ টাকা। নতুন ভাড়া চূড়ান্ত হলে তা দাঁড়াবে ২ হাজার ৬৫৬ টাকা। আগের তুলনায় ভাড়া বাড়বে ২২৬ টাকা।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, রেলওয়ের প্রকল্প ব্যয়, পরিচালন ব্যয় নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নেই। উল্টো নানা অনিয়ম রয়েছে। আবার যে রাজস্ব আয় হয়, তার প্রক্রিয়া নিয়েও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তাই কৌশলে ভাড়া বৃদ্ধি না করে এসব অনিয়ম ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ করার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

ডেস্ক/ই.ই


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর